কার্ল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্ব মূল্যায়ন কর ।

admin

ভূমিকা :

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যার বৈপ্লবিক সমাজচিন্তা সারা বিশ্বে অভাবিত সাড়া জাগিয়ে ছিল। তিনি হচ্ছেন জার্মান দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্কস। তিনি ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ প্রুশিয়ার রাইনল্যান্ড প্রদেশে ট্রিভস্ শহরে ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আইন ও দর্শন শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার ব্যাকুল ইচ্ছা থাকলেও তা লাভে তিনি ব্যর্থ হন। তিনি চরমপন্থি দলের পত্রিকা 'রেনিশ বাঁটাং” এর সম্পাদক নিযুক্ত হন। আরেক বিখ্যাত ব্যক্তি ফ্রেডারিক এঙ্গেলস এর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটে। নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য এবং ইতিহাসের সঠিক ব্যাখ্যা নির্ধারণ করে তাঁরা লেখনি ধারণ করেন। তাদের বিখ্যাত সৃষ্টি The Communist Manifesto. এছাড়া মার্কসের Das Capital আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়াও মার্কস National Economy and Philosophy: Thesis on Foerbach The Critique of Political Economy: Value, Price and Profit: The Civil War in France প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৮৮৩ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


কার্ল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্ব মূল্যায়ন কর ।


ইতিহাসের বস্তুতান্ত্রিক ব্যাখ্যা বা ঐতিহাসিক বস্তুবাদ :


সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে মার্কস যে সমস্ত তত্ত্ব আবিষ্কার করেন তার অন্যতম হচ্ছে বস্তুবাদ। বস্তুবাদের ব্যাখ্যায় একটি হচ্ছে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ এবং অন্যটি হচ্ছে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। যে বিজ্ঞানসম্মত দার্শনিক ভিত্তির উপর মার্কসবাদ দাঁড়িয়ে আছে তাকে বলে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। এর কারণ এ যে, মার্কসবাদে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো যেভাবে, যে দার্শনিক পদ্ধতিতে বিচার ও বিশ্লেষণ করা হয় তা হলো দ্বন্দ্বমূলক। এ ঘটনাগুলো সম্পর্কে তার ধারণা, বিশ্লেষণ ও মতবাদ হলো বাস্তব। প্রাকৃতিক ঘটনাবলি সম্বন্ধে মার্কসীয় ব্যাখ্যা যেমন দ্বন্দ্বমূলক ও বাস্তব; ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্বন্ধে, মানবেতিহাস ও সমাজজীবন সম্বন্ধে এর বিচার, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, ধারণা ও মতামত ঠিক তেমনই। এ দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজ জীবন, সমাজ ঘটনা ও সমাজ ইতিহাস অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করাকে বলে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ


ঐতিহাসিক কাল :

ফ্রান্সিস, ডব্লিউ কোকার তাঁর Recent Political Thought বইতে উল্লেখ করেন মার্কস অভিজ্ঞতার আলোকে গোটা ইতিহাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন। যেমন-


১. ইতিহাস পূর্বকাল,

২. ঐতিহাসিক কাল ও

৩. ইতিহাসোত্তর কাল।


১. ইতিহাস পূর্বকালে মানবজীবন ছিল সহজ, সরল ও অনাবিল। তখন সমাজে সম্পত্তির উদ্ভব ঘটে নি। তখন সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করতো।


২. ঐতিহাসিক কালে সম্পত্তি ব্যবস্থার সূচনা ঘটে এবং তার সূত্র ধরে আসে শ্রেণি ব্যবস্থা।


৩. ইতিহাসোত্তর কালে আবার স্বর্ণযুগ ফিরে আসবে। তখন সম্পত্তি সম্পর্কের ও শ্রেণি সংগ্রামের অবসান ঘটবে এবং প্রতিষ্ঠিত হবে পূর্ণ সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।


ঐতিহাসিক বস্তুবাদ কী? দ্বন্দমূলক বস্তুবাদী দর্শনকে যখন ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় তখন তাকে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বলে।


জোসেফ স্টালিন : সমাজ জীবনের অনুশীলনে দ্বান্দিক বস্তুবাদের নীতিগুলোর প্রয়োগ তথা সমাজ জীবনের ধারা, সমাজ ও তার ইতিহাসের অনুশীলনে দ্বান্দ্বিক নীতিগুলোর প্রয়োগ হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ।


হাওয়ার্ড সেলসাম : দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের নীতিসমূহ যেমন ঐতিহাসিক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি গঠন করে ঐতিহাসিক বস্তু বাদও তেমনিভাবে স্বপ্নমূলক বস্তুবাদের উত্তর এবং বিষয়বস্তুর সামাজিক ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপিত করে।


ব্যাখ্যা

১. সমাজ দৈব শক্তির ফলে সৃষ্ট নয় : সমাজ বিকাশের ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যে, কোন সমাজ বহির্ভূত শক্তি বা দৈবের মাধ্যমে আরোপিত কোন শক্তির মাধ্যমে সমাজ সৃষ্ট নয় বা সমাজের কোন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে না। সমাজের বিকাশ ও রূপান্তরের কারণ সমাজের মধ্যেই নিহিত। টিকে থাকার জন্য মর আহার করে। সভ্য হওয়ার জন্য মানুষ কাপড় পরিধান করে এবং সামগ্রিকভাবে মানুষের আরো জিনিস বা দ্রব্যের প্রয়োজন হয়। এসবের জন্য মানুষ সংঘবদ্ধ হয় এবং এর থেকেই সমাজের উৎপত্তি।


২. শ্রম : প্রথমত, টিকে থাকার জন্য এবং দ্বিতীয়ত, টিকে থাকার জন্য মানুষ পরিশ্রম করতে শিষে এবং সচেতনভাবে শ্রমকে কাজে লাগিয়ে মানুষ নানাবিধ পণ্য উৎপাদন করে। ক্রমান্বয়ে মেধাকে কাজে লাগিয়ে সমাজকে আরো উন্নতির পথে নিয়ে যায়। কিন্তু রাস্তাটি এত সহজ নয়। কারণ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা এগুলো সমাজের ভৌতিক (Material) জীবনের অবস্থার মধ্যে পড়ে এবং এগুলো সমাজকে অবশ্যই প্রভাবিত করে। একই রকম প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা সত্ত্বেও অনেক সময় সমাজ ব্যবস্থায় তারতম্য দেখা দেয়। এ তিনটি দিক থেকে হুবহু মিল থাকা সত্ত্বেও কোন একটি দেশ হয়তো খুবই উন্নত অর্থনীতির অধিকারী এবং অন্যটি হয়তো সবদিক থেকে একেবারে পশ্চাদপদ ।


৩. ঐতিহাসিক উন্নয়নের প্রত্যক্ষ নির্ধারক : মার্কসের মতে, ঐতিহাসিক উন্নয়নের প্রত্যক্ষ নির্ধারকগুলো হচ্ছে উৎপাদন শক্তিসমূহ । উৎপাদন শক্তিসমূহ তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন- ক. প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ যেমন- ভূমি, আবহাওয়া, ভূমির উর্বরতা, খনিজ সম্পদসমূহ তথা লোহা, কয়লা ও পানি শক্তি ইত্যাদি। খ. কলা-কব্জা ও কলাকৌশল যা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং গ. সম-সাময়িককালের মানুষের মানবিক এবং নৈতিক গুণাবলি।সভ্যতার অগতির সাথে সাথে মানুষেরই সৃষ্ট কল-কব্জা ও কলা-কৌশল প্রকৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করাতে সহায়তা করে।


৪. উৎপাদন, উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদিকা শক্তির পরিবর্তন: মানুষ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জড়িত। উৎপাদন ভূমি, শ্রম, পুঁজি ও ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। আর এখানেই উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদিকা শক্তি জড়িত। যুগে যুগে ইতিহাসের স্তরে স্তরে এ সম্পর্ক বিভিন্নরূপ ধারণ করেছে। মার্কসের মতে, মানবিক এবং সামাজিক ইতিহাস নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি ইতিহাস, রাজনীতি কিংবা সংস্কৃতি নয়। একটি সামাজিক সংগঠনে নতুন নতুন বিশ্বাস, ন্যায়বিচার কিংবা যুক্তিভিত্তিক নীতিসমূহের জন্য নয় বরং এগুলো হচ্ছে সে সমস্ত নতুন আবিষ্কারের ফল যেগুলো উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন সাধন করে। অর্থাৎ মানুষ এবং তার পারিপার্শ্বিকতার সম্পর্কসমূহ। মার্কসের ভাষায়, "The mode of production in material life determines the general character of social, political and spiritual processes of life."


সহজ কথায় বলা যায়, অর্থনৈতিক তথা উৎপাদন শক্তিসমূহই সকল বিষয়ের নির্ধারক। মার্কস এর মতে, উৎপাদন শক্তিসমূহ উৎপাদন সম্পর্ক নির্ধারণ করের এবং উৎপাদন সম্পর্ক অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক, আদর্শগত এবং সমাজের উপরিকাঠামোর ভিত রচনা করে। ফ্রেডারিক এঙ্গেলস বিষয়টিকে এভাবে আলোচনা করেছেন- In every historical epoch the prevailing mode of economic production and exchange and the social organization necessarily following from it. from the basis upon which it is built up and from which alone can be explained the political and intellectual life of that epoch



প্রথমে সমাজের উৎপাদন শক্তিগুলোর পরিবর্তন ও বিকাশ ঘটে এবং পরে এর উপর নির্ভর করে এবং এর সাথে সম্পর্ক রেখে মানুষের উৎপাদন সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়। সহজভাবে উৎপাদনের সাথে জড়িত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কই হচ্ছে উৎপাদন সম্পর্ক। উৎপাদন শক্তির পরিবর্তনের সাথে উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ- হস্তচালিত উৎপাদন ব্যবস্থায় সামন্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে এবং বাষ্পচালিত যন্ত্রের যুগে পুঁজিপতি শ্রেণির সৃষ্টি হয়। মার্কস বলেন, উন্নততর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যতই আবিষ্কৃত হচ্ছে ধন উৎপাদন পদ্ধতিও ততই পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে, মানুষের শ্রেণি চরিত্রও নবতর রূপ পরিগ্রহ করছে। উৎপাদন সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিবর্তন সাধিত হয়। উদাহরণস্বরূপ- সামন্তবাদের পরিসমাপ্তির পর বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়নের ফলে সামন্তবাদী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেগুলো সে সময়ের জন্য উপযুক্ত ছিল তার স্থলে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, নতুন নৈতিক ও আইনগত পদ্ধতিসমূহ এবং নতুন অর্থনৈতিক তত্ত্বসমূহ তার স্থলাভিষিক্ত হয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে যেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নিজস্ব উৎপাদন সম্পর্ক বিদ্যমান সেখানকার সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য, কলা, বিজ্ঞান ও দর্শন সামাজিক মালিকানা বা রাষ্ট্রীয় মালিকানার দেশের চাইতে ভিন্ন।


৫. উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদন শক্তির সমন্বয় : কোন উৎপাদন সম্পর্ক যখন সে সমাজের উৎপাদন শক্তিগুলোর বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দু'য়ের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপিত হয়। উৎপাদন সম্পর্ক খুব বেশি। সিন উৎপাদন শক্তিগুলোর বিকাশের পিছনে পড়ে থাকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত উৎপাদন শক্তিগুলো ও উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে নিশ্চয়ই সামঞ্জস্য স্থাপিত হবে।


৬. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ : সমাজ বিকাশের ইতিহাস হলো সমাজের উৎপাদনের উন্নতির ইতিহাস। উৎপাদনের উপায়গুলোর ভিতর দিয়ে পরস্পরের (মানুষ) মধ্যে যে উৎপাদন সম্বন্ধ স্থাপিত হয় সেগুলোর ক্রমবিকাশের ইতিহাস। অর্থনৈতিক উৎপাদনের মাধ্যমগুলো যখন যে শ্রেণির হাতে সংরক্ষিত থাকে তখন সে শ্রেণিই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে প্রাধান্য লাভ করে এবং তদানুসারে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন ব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়ে থাকে। 


সমালোচনা : মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। যেমন-


১. সমাজ বিকাশে অর্থনীতিই একমাত্র নিয়ামক নয় : ইতিহাসের বস্তুতান্ত্রিক ব্যাখ্যায় অর্থনৈতিক উপাদানকে ইতিহাসের যাবতীয় ঘটনার মূল নিয়ামক হিসেবে গণ্য করে ভুল করা হয়েছে। মার্কন উত্তর কালে তাঁর নিজস্ব সমর্থকগণই স্বীকার করেছেন যে, মার্কস এর এ তত্ত্ব ভ্রান্ত। এ কথা সত্য যে, সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও একমাত্র নিয়ামক নয়। ধর্ম, ভাষা, শক্তিশালী ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


২. অস্পষ্ট ধারণা : অধ্যাপক প্লামেনাজ তাঁর সমালোচনায় বলেন যে, এ তত্ত্বের নিখুঁত বিশ্লেষণ থেকে আমরা দুটি জিনিস দেখতে পাই। প্রথমত, এ তত্ত্বের বর্ণনায় মার্কস অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং এ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উপরি কাঠামো বলে যেসব জিনিসের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো কিভাবে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সে সম্পর্কে তিনি কোন সুস্পষ্ট ধারণা নিতে পারেন নি। দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভিতর লুক্কায়িত স্ববিরোধিতার ফলে সৃষ্ট শ্রেণিগুলোর রাজনৈতিক সংগ্রামের সঠিক বর্ণনাতো দূরের কথা এসব স্ববিরোধিতার সুস্পষ্ট কোন সংজ্ঞাও তিনি প্রদান করতে পারেন নি। অর্থনৈতিক ভিত্তি, উপরি কাঠামো, স্ববিরাধিতা প্রভৃতি শব্দের সঠিক সংজ্ঞা না দিয়েই তিনি ঐতিহাসিক বস্তুবাদের তত্ত্ব প্রচার করায় তা একটি অপর্যাপ্ত ও সঙ্গতিবিহীন তত্ত্বে পরিণত হয়েছে।


উপসংহার : ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সমাজের একমাত্র বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ। এ মতবাদ শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি সংগ্রামে বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক। ইতিহাসের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার কাজে শ্রমিক শ্রেণিকে তার সকল শক্তি সংহত করতে সাহায্য করে। মুক্ত এবং মর্যাদাসম্পন্ন শ্রমজীবীর জন্য সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের ধারাকে ত্বরান্বিত করে। যেখানে শ্রমজীবী মানুষ যৌথভাবে উৎপাদনের উপায়ের মালিক এবং নিয়ন্ত্রণকারী। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সমাজের বিকাশে মানুষের সক্রিয় উদ্যোগ এবং তাদের শ্রমের মর্যাদা স্বীকার করে ইতিহাসকে ভাববাদের আধি-ভৌতিক শক্তি ও অধিবিদ্যার প্রভাব হতে মুক্তি দিয়েছে। মার্কসীয় মতবাদের প্রভাবে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো কল্যাণকারী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে।


#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!