ম্যাকিয়াভেলিকে কেন আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক বলা হয়?-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

admin

ভূমিকা :

ম্যাকিয়াভেলি একজন ক্ষণজনা দার্শনিক। যতজন রাষ্ট্রচিন্তাবিদ রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবর্তন এনেছেন ম্যাকিয়াভেলি তাদের মধ্যে একজন। তিনি পনের শতকের ইতিহাসের এক অশান্ত অধ্যায়ে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার পুরোহিত হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই ইউরোপের রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছিলেন। He was Forced to live a solidarity life in his small farm near Florence, the Forced leisure opened to him an opportunify to think deeply the goings on of Italian politics. তিনি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক নামে সমধিক পরিচিত। এর যৌক্তিকতা প্রমাণে তার রাষ্ট্রদর্শন আলোচনা অপরিহার্য।


ম্যাকিয়াভেলিকে কেন আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক বলা হয়?-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।


১. রাষ্ট্র :
আধুনিক যুগের দিকপাল ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রদর্শনের প্রথম দিক হলো রাষ্ট্র। তিনি রাষ্ট্র সম্পর্কে অভিমত ব্যাক্তি করেন। তার মতে রাষ্ট্র হল একটি মানসিক প্রতিষ্ঠান। তিনি রাষ্ট্র সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু অন্যতম আধুনিক রাষ্ট্রদার্শনিক Karl Marx এর মতে রাষ্ট্র হলো শোষণের
হাতিয়ার। মধ্যযুগের রাষ্ট্রকে একটি প্রাকৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হতো। ম্যাকিয়াভেলির মতে, State is not a product of deving origin it is a product of human being, so everything depended on human law,

আরো দেখুন: ম্যাকিয়াভেলিকে আধুনিক যুগের প্রথম রাষ্ট্রচিন্তাবিদ বলা হয় কেন?

২. মানব প্রকৃতি : ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম বিষয় হলো মানব প্রকৃতি। মানব প্রকৃতিকে তিনি নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে মানুষ | প্রকৃতিগতভাবে খারাপ ও স্বার্থপর। স্বার্থপরতার জন্য শাসকগণ ক্ষমতা প্রত্যাশী। তার ধারণা মানব চরিত্রে অকৃতজ্ঞতা, প্রতারণা, কাপুরুষতা, লোভ ইত্যাদি বিরাজমান।


৩. নৈতিকতা : নৈতিকতা ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্র দর্শনের একটি মৌলিক দিক। ধর্ম ও নৈতিকতাকে তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেন। তিনি নৈতিকতা থেকে রাজনীতিকে পৃথক করেছেন। Gettel বলেছেন, The chief difference between Machiavelli and the witers who preceded him was in his attitudes, towards religion and morality.


৪. জাতীয় রাষ্ট্র : জাতীয় রাষ্ট্র ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রচিন্তার একটি অন্যতম দিক। ম্যাকিয়াভেলির চেতনায় জাতীয় রাষ্ট্রের উৎপত্তি লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীনকালে রাষ্ট্র ছিল city state ভিত্তিক। মধ্যযুগে রাষ্ট্র ছিল ধর্ম ভিত্তিক। কিন্তু ম্যাকিয়াভেলি রাজনীতিকে ধর্ম থেকে পৃথক করেন। তার এ পৃথকীকরণের ফলে জাতীয় রাষ্ট্রের পথ সুগম হয়। David Thomson এর ভাষায়, A well organised central administration is also must for a nation state.


আরো পড়ুন: 
রাজনীতি সম্পর্কে ম্যাকিয়াভেলির মতবাদ ব্যাখ্যা কর।

৫. মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ : মূল্যবোধ জাগ্রতকরণে ম্যাকিয়াভেলির অবদান সর্বাধিক। মধ্যযুগের শেষের দিকে ইতালিতে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। ঐ সময় ধর্মীয় ও নৈতিক # মূল্যবোধের যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। মূল্যবোধের অভাবে সমাজব্যবস্থায় চরম সংকট চলছিল। তিনি একজন বাস্তববাদী | চিন্তাবিদ। তিনি ধর্মের অনুশীলন বাদ দিয়ে মূল্যবোধের প্রেক্ষিতে কাজ করার সুপারিশ করেন।


→ রাষ্ট্রে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা : ম্যাকিয়াভেলি সর্বপ্রথম রাষ্ট্রের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করেন।


১. শাসননীতি : শাসননীতি সম্পর্কে ম্যাকিয়াভেলি বক্তব্য পেশ করেন। তিনি শাসকদের দ্বৈতনীতি অনুসরণ করতে বলেন। শাসননীতির মূল প্রাতিপাদ্য হলো, প্রেম-প্রীতি ভালোবাসা ও দয়া- দাক্ষিণ্য এবং শঠতা, কপটতা ও প্রতারণা ইত্যাদি। ন্যায় ও অন্যায় দুটো উপায়ে রাষ্ট্র শাসন করা যেতে পারে। P. G. Das 5 ভাষায়, Machiavelli has affirmed that rulers aim should be to maintain their state to achive greater interests' রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ন্যায় ও অন্যায় সত্য ও অসত্যের আশ্রয় নেয়া যাবে।


 ২. রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব : ম্যাকিয়াভেলি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। রাষ্ট্রীয় * আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক সার্বভৌমত্বের প্রেক্ষিতে ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করা যেতে পারে। তার মতে, 'রাষ্ট্রই জীবনের চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান, এটি কোনো শক্তির অধীনে নয়।” শক্তিশালী শাসকের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঐক্য, সংহতি প্রতিষ্ঠা। Prof Dunning এর ভাষায় Always Machiavelli has in mind the necessity of the existence the state as the first principles of his philosophy.


৩. মধ্যযুগের ধারণা পরিবর্তন : মধ্যযুগের ঐশ্বরিক বিধি বিধানের প্রচলন ও গির্জার প্রভাব থেকে দূরে সরে তিনি বলিষ্ট হয়েছেন, পার্থিব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধর্ম ও গির্জা হাতে পৃথক।

আরো পড়ুন: ম্যাকিয়াভেলির মতে শাসকের কি কি গুণাবলি থাকা উচিত? বর্ণনা কর ।

৪. কূটনীতি: আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিকপাল ম্যাকিয়াভেলি ও একজন কূটনীতিক বটে। তিনি কূটনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতাবানী | মতামত প্রকাশ করেন। রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার পূর্বে তিনি। - জানতিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য দিতেন। তার জীবন দর্শনে ব্যাতনামা জানীতিবিদের মর্যাদা লাভ করেন। কেননা ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ ছিলেন।


উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রদর্শনে বহুবিষয়ের সমন্বয় রয়েছে। তিনি রাজনীতিবিদ, ধর্ম ও • সতিকতা সম্পর্কে ব্যতিক্রমধর্মী মতামত ব্যক্ত করেছেন। অন্য কোনো রাষ্ট্রচিন্তাবিদও এ ধরনের মতামত ব্যক্ত করতে পারেননি। তার এ ধরনের মতামত পরবর্তীতে বহুচিন্তাবিদের দর্শনের ভিত্তি রচনা করেছেন। তার চিন্তা চেতনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা অন্য কোনো দার্শনিকের মধ্যে ছিল না। এ জন্য তিনি Father of the modern political thought নামে পরিচিত।


#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!